সাক্ষাতকার
সমাজ উন্নয়নে ডাক্তার ও মাস্টার অবহেলিত হলে,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিঘ্নিত হবে , কোহিনূর রহমান কেয়া
  10, June, 2019, 11:21:28:PM

ডাক্তার আর মাস্টার এঁরাই সমাজ গড়ার কারিকর ও স্বাস্থ্যসেবা ও উন্নয়নের ধারক ও বাহক।সেই দুই এলিট শ্রেণি পেশার মানুষের দৈন্যতা ঘুচবে কবে?দিনাজপুর পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেের ডাক্তার কাজী আবদুল্লা সাহেব হাতে স্যালাইন লাগিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।এটা সত্যি ই একটা বিস্ময়কর ব্যাপার!

প্রথমে ছবিটা দেখে ভেবেছিলাম,এটা বোধহয় ইচ্ছাকৃত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার মানসে তিনি হাতে স্যালাইন দিয়ে রোগীর সেবা দিচ্ছেন। একটু অবাক ও বিস্মিত হয়ে পুরো বিষয়টি পড়ার পর আমি আরও বিস্মিত হলাম!এটাও করতে হয় একজন বিসিএস দিয়ে চাকরি পাওয়া ডাক্তার কে!
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার হয়।শুধু ডাক্তার হলেই হয় না।তাদের আরেক ধাপ বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে রীতিমতো পাস করে ডাক্তার হতে হয়।একটা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৮-১৯ জন ডাক্তার থাকার কথা।কিন্তু সুযোগ সুবিধার অভাবে অনেকেই তাঁদের কর্মস্থলে থাকেন না বা থাকতে পারেণ না।চাকরি দিয়ে প্রথমেই এঁদের পোস্টিং দেয় কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।সেখানে দেখা যায় ১৮-১৯ জন ডাক্তারের স্থলে ১জন -২ জন, বড়জোর ৪ জন ডাক্তার থাকে।যাদের সেবা দিতে হয় পুরো উপজেলার জনগনকে! কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায় এখানে ১৮জন ১৯ জন ডাক্তারের স্থলে আছে ১-২ জন বা ৪ জন।কিন্তু তাঁরা ও নামে আছেন। স্ব-শরীরে উপস্থিত নেই।এবং শুধু চিকিৎসক নয় চিকিৎসা সেবা দিতে যেসব সুযোগ সুবিধা বা যন্ত্রপাতি থাকা দরকার, তা-ও নেই!শুধু নামে মাত্র হাসপাতাল নামক একটা বিল্ডিং বানিয়ে ফেলে রাখলে কি চিকিৎসালয় হয়!তা ই যদি হয়, তা হলে কেন থাকবে সেখানে ডাক্তার? এই কেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার থাকে না এই প্রশ্নটা সবার মগজে ঘুরপাক খায়।কিন্তু কেন থাকে না, এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি?

প্রশ্ন টা পরিস্কার করার জন্য আমার আজকের লেখা।একজন ডাক্তার কে সরকার মানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগ দেন।তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের মাথায় প্রথমেই আসতে হবে সেই সেবকের খাদ্য,বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তার কথা।তাঁর নিরাপত্তার কথা ।মানুষ যদি নিরাপদ খাদ্য না পায় তাহলে তাঁর পক্ষে কোনোভাবেই সুস্থ শরীরে কাজ করা সম্ভব নয়।খাদ্য ঝুঁকি নিয়ে একদিন বা দুইদিন কাজ করা গেলেও মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কোনো মানুষের পক্ষে কোনোভাবেই কাজ করা সম্ভবপর হতে পারে না।তাঁর দৃষ্টান্ত আমাদের ডাক্তার আব্দুল্লাহ!
ডাক্তার আব্দুল্লাহর খাবারের যায়গা নেই দেখে বস্তা দিয়ে ঘেরা অসাস্থ্যকর পরিবেশে খাওয়া দাওয়া করেণ।যার কারণে,তিনি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেয়ে,খাদ্যে জীবাণু থাকার কারণে (আমরা যেটাকে ফুড পয়জন বলি)তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।ওখানে অন্য যে একজন ডাক্তার আছেন তিনি এক্সিডেন্ট করে শয্যাশায়ী থাকায় ডাক্তার আব্দুল্লাহ কেই পুরো হাসপাতালটি সামলাতে হচ্ছে।তাঁর শরীরকে দাঁড় করিয়ে রাখার প্রয়োজনে তিনি অসুস্থ শরীরে, হাতে স্যালাইনের সূচ গেথে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে গেছেন রোগী কে।এটা কতটা অমানবিক ও নিষ্ঠুর! তা ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, যেখানে নেই দারোয়ান,নেই পিয়ন নেই আয়া।এই দারোয়ান পিয়ন আয়ার কাজটিও ঐ ডাক্তার সাহেব দেরই করতে হয়।বুঝতে পারছি না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের, স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় কি করছেন!

আমরা প্রায়শই খবরে দেখতে পাই যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক থাকেন না।যাঁরা থাকেন, তাঁরা একাধারে ডাক্তার,দারোয়ান, পিয়ন ও আয়ার কাজ করেণ,বাধ্য হয়ে করতে হয়।এই ডাক্তার সাহেবরা রোগীর নাম তালিকাভুক্ত করেণ।এবং তাঁদের নিজে গিয়ে ডেকে এনে স্বাস্থ্যসেবা দেন। তারপরে যদি তাদের খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে সেখানে থাকা যায় না।এ নিয়ে অতি সম্প্রতি আমাদের মাননীয় এমপি বিখ্যাত ক্রিকেটার মাশরাফি তাঁর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) ঝটিকা তদারকি করতে গিয়ে,দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৪ জন ডাক্তারকে বরখাস্ত করার নজির ও পেপার পত্রিকা এবং খবরে প্রকাশিত হয়েছে।এবং এ নিয়ে জল ঘোলা ও কম হয় নি।

এ ব্যপারে আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবহেলাকে দায়ী করব।কারণ তাদের যে বাজেট নেই তা নয়।বাজেট আছে তদারকি ও দায়িত্বে অবহেলা।এবং তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দূর্নীতি ও একটা বড় কারণ।আমি বুঝি না স্বাস্থ্য বাজেটের টাকা যায় কোথায়?এটা কি হাওয়ায় উড়ে যায়? তা না হলে বিসিএস দিয়ে সর্বোচ্চ মেধাবী ডাক্তারদের প্রতি এই অবহেলা কেন?

মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয় ও আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে বিনীতভাবে বলছি,"আপনি যখন দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছেন,তখন আপনার সেই সার্বিক উন্নয়নের মধ্যে এই অব্যবস্থাপনা কেন,সে বিষয়ে আপনি দয়া করে আপনার সুদৃষ্টি দিন"।তা-না হলে আপনার এতো কষ্টের স্বাস্থ্য খাতের, স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ জনগন ভোগ করতে পারবে না।

একদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা,এই দুর্ভোগের কারণে যেমন তাঁদের সঠিক সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। অন্যদিকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক রা ও তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানসিক কষ্টে ধুঁকে ধুঁকে মরছে।এই সব থেকে প্রয়োজনীয় দুটো খাতের লোকেরা অবহেলিত হলে এই দেশের সার্বিক উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হবে এবং হচ্ছে।

আমাদের দেশের সরকার,যেমন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে একটা বৈষম্য সৃষ্টি করে রেখেছেন। তদ্রূপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা,কমিউনিটি ক্লিনিকের ডাক্তারদের মধ্যে একটা বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি করে রেখেছেন। একজন জেলা,বিভাগীয় পর্যায়ের ডাক্তারদের যে সুযোগ সুবিধা পায়।আমি মনে করি,উপজেলা পর্যায়ের ডাক্তারদের জন্যও সে ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া উচিৎ।এই সুযোগ সুবিধা তাঁরা পেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে আমার মনে হয় কোন ডাক্তার অনিহা প্রকাশ করবে না। কারণ ধনী হোক,গরীব হোক খাদ্য ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা সব মানুষ ই চায়।ডাক্তাররা যদি তাঁদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করার সুযোগ পায়।তা হলে উপজেলায় যেতে যেমন তাঁদের অনিহা থাকবে না।তেমনি উপজেলাবাসী ও সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
তা ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন,অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্যাথলজি ব্যবস্থা থাকলে বড় বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে রোগীরদের চাপ কমবে বলে মনে হয়।



     সাক্ষাতকার
ডা. মুরাদের এমপি পদ থাকা নিয়ে যা বললেন আইনমন্ত্রী
আদালত যা সিদ্ধান্ত দেবেন, মেনে নেব: অর্থমন্ত্রী
দলীয় লেজুড়বৃত্তির প্রভাবে মেধাবীরা পরিণত হচ্ছে দুর্বৃত্তে-বলছেন, রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
‘ঢাকাকে বাসযোগ্য আধুনিক নগরীতে রূপান্তরিত করতে হবে’- মেয়র আতিকুল ইসলাম।
সমাজ উন্নয়নে ডাক্তার ও মাস্টার অবহেলিত হলে,শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন বিঘ্নিত হবে , কোহিনূর রহমান কেয়া
কেন আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ছাত্রলীগ নেত্রী
ইশতেহারে পরিবহন শ্রমিকের অধিকার চাই
গান শোনার পাশাপশি মানুষ দেখতেও চায়
ঢাকা-৬ কে সবুজায়ন করতে চায় সানি মাহতাব
  সর্বশেষ
কু-প্রস্তাবে রাজী না নুরুন নাহারের উপর প্রাণঘাতি হামলা-রক্তাক্ত যখম-স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের মামলা নিতে অস্বীকৃতি ।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি ঘাতকরা: প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় শোক দিবস: ব্যানার-পোস্টারে ব্যতিক্রমী যুবলীগ
বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জিয়া ও তার পরিবার: তথ্যমন্ত্রী
বিএনপির মিছিল থেকে পেট্রোল বোমা মারার শঙ্কায় জনগণ: তথ্যমন্ত্রী
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
শান্তির ভাষায় কথা বলার জন্য বিএনপি’র প্রতি আহবান জানিয়েছেন-ওবায়দুল কাদের
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ভাষা শহীদেরা প্রেরণার উৎস : ফখরুল

Chief Editor and publisher : Moynul Islam Milon

Cheif Editorial Adviser : Md. Munir Hossain (JM)


Kazi Emdadul Hoque(Editor) Sara Bangla

Kazi Obaidul Hoque(Editor) Finance
 
  
Dynamic SOlution IT Dynamic POS | Super Shop | Dealer Ship | Show Room Software | Trading Software | Inventory Management Software Computer | Mobile | Electronics Item Software Accounts,HR & Payroll Software Hospital | Clinic Management Software Dynamic Scale BD Digital Truck Scale | Platform Scale | Weighing Bridge Scale Digital Load Cell Digital Indicator Digital Score Board Junction Box | Chequer Plate | Girder Digital Scale | Digital Floor Scale